মাহে রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, সকল প্রশংসা শুধু একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য। শুরু করছি আজকের বিষয় রমজানে কিছু করণীয় এবং কিছু বর্জনীয় কাজ সম্পর্কে; আশা করি ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ পোষ্টটি পাঠ করবেন।

Mar 4, 2024 - 18:02
Apr 20, 2024 - 12:36
 0  20
মাহে রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়

করণীয় 

  • আল্লাহ তা’আলার উপর আস্থা রাখুন

  •  সালাত সুন্দর করে ধীর স্থির ভাবে আদায়  করুন

  •  কোরআন পড়ুন এবং যথাসম্ভব বোঝে পড়ার চেষ্টা করুন

  •  যারা কুরআন পড়তে পারেনা, তারা সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে তেলাওয়াত শ্রবণ  করুন

  •  প্রত্যেক ভাল কাজে আল্লাহর নামে আরম্ভ করুন

  • আপনার সম্পদের হিসাব করে  যাকাত প্রদান করুন

  •  গোপনে দান করুন

  •  বেশি বেশি মেসওয়াক করুন

  •   নিকট আত্মীয়দের জন্য ব্যয় করুন

  •  অভাবীদের জন্য ব্যয় করুন

  •  আপনার সিয়াম কে অর্থবহ করার চেষ্টা করুন

  •  চোখের পর্দা  করুন

  •  অন্যকে সৎকর্মের দিকে উৎসাহিত এবং পরিচালনা করুন

  • দিনমজুর ও সাধারণ শ্রেণীর মানুষদের সালাম দিন

  •  অধীনদের প্রতি সদয় থাকুন, তাদের কাজের বোঝা হালকা করে দিন

  •  স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার করুন এবং প্রতিভজন পরিহার করুন

  •  সাহারিতে একটি হলেও খেজুর খান

  •  ভোর রাতে আল্লাহর নিকট দোয়া করুন

  •  পথে কষ্টদায়ক কিছু দেখলে তা পরিষ্কার করুন

  •  রমজানের তাহাজ্জুদ তাদের অভ্যাস করুন

 

 বর্জনীয়

  • অর্থহীন ও  অহেতুক কাজ পরিহার করুন

  •  টিভি সিরিয়াল, মুভি, নাটক ও সিনেমা দেখা পরিহার করুন

  •  মিউজিক শুনবেন না

  • গীবত করা ও শোনা থেকে বিরত থাকুন।

  • গেমস খেলে সময় নষ্ট করবেন না

  •  আড্ডা ও দল বেঁধে গল্প গুজব পরিহার করুন

  •  ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কম দিন

  • হারাম উপার্জন বন্ধ করুন

  •  আপনি সঠিক হওয়া সত্তেও পরিবার কিংবা পরিবারে বাহিরে কারো সাথে তর্ক  পরিহার করুন

  •  ঝগড়া পরিহার করুন

  •  মিথ্যা কথা পরিহার করুন

  •  যেকোন পাপ কাজ পরিহার করুন

  •  কারো ব্যাপারে সন্দেহ বা কুধারণা পোষণ করবেন না

  • কারো পিছনে সমালোচনা করবেন না

  • কারো প্রতি রূঢ় আচরণ করবেন না

  • কার প্রতি হিংসা বা শত্রুতা লালন করবেন না

  • কাউর কাছ থেকে অবৈধ কোন সুবিধা নেবেন না বা কাউকে অবৈধ্য সুবিধা দেবেন না

  • কারো মনে কষ্ট হয়, এমন কোন আচরণ করবেন না

  •  সাহরী, ইফতারি ও ঈদের কেনাকাটায় অপচয় করবেন না

 

সংরক্ষণ:   রমাদান প্ল্যানার “ শায়খ আহমাদুল্লাহ ”

ব্যাখ্যা: 

উপরোক্ত রমজানের করণীয় ও বর্জনীয়  কয়েকটি কাজ থেকে বর্ণনা করা হলো:

 

করণীয় ব্যাখ্যা ও হাদিস:

 

  1. আমরা সকল কাজে আল্লাহ তা’আলার উপর তাওয়াক্কুল করবো, ইনশাআল্লাহ তিনি তা সফল করে দিবেন।

  2. মন ও সালাতের সাদ অনুভব সালাতকে সুন্দর ও  ধীর স্থির ভাবে আদায় করুন যাতে করতে পারেন, আপনি  লম্বা কেরাত,  লম্বা রুকু সিজদা,লম্বা সেজদা ও কিছুক্ষণ লম্বা বৈঠক করতে পারেন।  যথা সম্ভব সকল তেলাওয়াতের অর্থ বুঝে পড়া।  সালাতের সময় অন্য চিন্তা থেকে সালাতে মনোযোগ দেওয়া। নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অসংখ্য হাদিস রয়েছে এখানে একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো;

হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে সালাত সংক্ষেপে আদায় করছে। হুযায়ফা (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি কতদিন থেকে এভাবে সালাত আদায় করছ? সে বলল, চল্লিশ বছর যাবত। তিনি বললেন, তুমি চল্লিশ বছর যাবত সালাত আদায় করছ না (পরিপূর্ণরূপে)। যদি তুমি এভাবে সালাত আদায় করতে করতে মৃত্যুবরণ কর তা হলে তুমি মুহাম্মদ (ﷺ)-এর সালাতের তরীকা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করবে। তারপর তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি সালাতে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করতে পারে এভাবে যে, সে সালাতের ফরয ওয়াজিবসমূহ ঠিকমত আদায় করবে এবং সালাত সুন্দরভাবে আদায় করবে। (সুন্নত ও মুস্তাহাব আমলগুলো পালনের মাধ্যমে)।

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ১৩১২

সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ

  1. কোরআন পড়ুন এবং তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন যদি আপনি না পারেন তাহলে নিকটবর্তী মসজিদের ইমাম,মোয়াজ্জিন বা অন্য কোন আলেমের কাছ থেকে শিখে নিন। যদি তাও না পারেন তাহলে কোরআন তেলাওয়াত সম্পূর্ণ মনোযোগের সাথে শ্রবণ করুন। এবং  আমরা আমাদের সমর্থ্য অনুযায়ী  দান সদকা করব,

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

  তিনি বলেন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (‘আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (‘আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তারা একে অপরকে  কুরআন  তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬

আমরা এখন সকল বিষয়ে বর্ণনা করতে গেলে অনেক সময় কিংবা এই পোস্টে অনেক বড় হতে পারে তাই আমরা অন্য একটি পোস্টে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। নিচে কিছু বর্জনীয় ব্যাখ্যা উপস্থাপনা করা হলো;

 

বর্জনীয় ব্যাখ্যা ও হাদিস:

 

  1. অর্থহীন কাজ বা অহেতুক কথাবার্তা বলা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখব।  যখন আজকাল আমরা প্রচুর পরিমাণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছি টেলিভিশন মুভি নাটক সিনেমা ইত্যাদির ভিতরে আমাদের নিজের সময়কে নষ্ট করছি। এখন কি ভিডিও গেমস দলবদ্ধভাবে আড্ডা এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটিয়ে নিজের মহামূল্যবান সময়কে নষ্ট  করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অহেতুক কথাবার্তা হতে স্বীয় জবানকে সংযত রাখতেন। মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করতেন।

 আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

  তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, ‘‘মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি জিনিস পছন্দ করেন এবং তিনটি জিনিস অপছন্দ করেন। তিনি তোমাদের জন্য পছন্দ করেন যে, তোমরা তাঁর ইবাদত কর, তার সঙ্গে কোন কিছুকে অংশী স্থাপন করো না এবং আল্লাহর রজ্জুকে জামাআতবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধর এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ো না। আর তিনি তোমাদের জন্য যা অপছন্দ করেন তা হল,  অহেতুক  আলোচনা-সমালোচনায় লিপ্ত হওয়া, অধিকাধিক প্রশ্ন করা এবং ধন-সম্পদ বিনষ্ট করা।’’

রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৭৯০

সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ

  1. আমরা অনেকেই এখনো মিথ্যা কথা বলি, ঝগড়া করি, অন্য সমালোচনা করি, হিংসা,শত্রুতা ইত্যাদি ভিতরে লিপ্ত  থাকি। মানুষের সাথে খারাপ আচরণ এবং কার ব্যাপারে সন্দেহ বা কুর ধারনা পোষণ করি। এগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তাঁর এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহ্‌র কোন প্রয়োজন নেই।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৩

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

  নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি।  কথা  বললে  মিথ্যা   কথা  বলে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে।  

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৭৪৯

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। ধারণা বড় মিথ্যা ব্যাপার। তোমরা দোষ তালাশ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পর  হিংসা  পোষণ করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষন করো না এবং পরস্পর বিরোধে লিপ্ত হয়ো না; বরং তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬০৬৪

সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ

  1. আমরা রোজার সময় সেহরী, ইফতারি ও  ঈদের কেনাকাটায় অধিক পরিমাণে অপচয়  করি। যথা সম্ভব এগুলো থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং রমজানের ভেতরে  ঈদের কেনাকাটা থেকে দূরে থাকবো,রোজার  আগে সকল জরুরত এবং প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলবো।

 আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

 রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তোমাদের তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যে তিনটি কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন তা হলো, তোমরা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে অন্য কিছু শরীক করবে না। তোমরা একতাবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরবে। আল্লাহ যাকে তোমাদের শাসক বানিয়েছেন তোমরা তার কল্যাণ কামনা করবে বা তাকে সদুপদেশ দিবে। তিনি তোমাদের যে তিনটি কাজ অপছন্দ করেন তা হলো, আসার কথা (গুজব), অধিক যাঞ্চা ও সম্পদের  অপচয় ।  

আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৪৪৪

সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ

 আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে উপরোক্ত সকল আলোচনা থেকে যা শিখতে পেরেছে তা প্রথমে আমাকে এবং আপনাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুক। (আমিন)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow