শবে কদরের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে বিশেষ ৫ আমল করতেন।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাতে নামাজ আদায় করবে তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৯১; মুসলিম, হাদিস : ৭৬০)

Mar 30, 2024 - 20:23
Apr 13, 2024 - 16:26
 0  6
শবে কদরের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে বিশেষ ৫ আমল করতেন।

1.রাসূলুল্লাহ(ﷺ)কদরের রাত্রে সারারাত জেগে ইবাদত করতেন।তিনি সারারাত জেগে ইবাদত করতেন এবং  পরিবারের লোকদেরকে জাগিয়ে দিতেন এবং ঘুমাতে দিতেন না।বছরের অন্য কোনো সময়ে সারা রাত জেগে ইবাদত করার নজির রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে ছিল না। কিন্তু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কদরের রাতে সারা রাত জেগে ইবাদত বন্দেগি করতেন।

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী(ﷺ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২০২৪

2.রাসূলুল্লাহ(ﷺ) রমাদানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন।

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (ﷺ) রমযানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন। তাঁর ওফাত পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তাঁর সহধর্মিণীগণও (সে দিনগুলোতে) ইতিকাফ করতেন। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২০২৬

আরো একটি হাদিসে এসেছে,

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রতি রমযানে দশ দিনের ই‘তিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২০৪৪

ইতেকাফ না করতে পারলে আমরা রমজানের শেষ দশকে এ রাতগুলোতে বেশি বেশি এবাদত বন্দেগী করার চেষ্টা করতে পারি।আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তৌফিক দান করুক।(আমিন) 

3.রাসুলুল্লাহ(ﷺ)কেয়ামুল লাইল করতেন।কিয়ামুল লাইল অর্থ হলো রাতে দাঁড়ানো। অর্থাৎ রাত জেগে দীর্ঘ কিরাতসহ নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এত দীর্ঘ কিরাতসহ নামাজ আদায় করতেন যে লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত।

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (ﷺ) এরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ্‌ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৫

4.রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এবং জিব্রাইল(আ:)যৌথভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।সারা বছর যে আয়াতগুলো নাযিল হতো সে আয়াতগুলো নবী(ﷺ) এবং জিব্রাইল (আ:) যৌথভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন আল্লাহর রসূল (ﷺ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (‘আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (‘আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তারা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল (ﷺ) রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬

5.নবী(ﷺ)কদরের রাতগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করতেন।আন্তরিকতার সাথে দোয়া করা।মনের মাধুরী মিশিয়ে চোখের পানি মিশিয়ে অশ্রু সিক্ত করে এ দোয়াটা করতে হবে তাহলে,সে দোয়া আল্লাহ  তা’আলার কাছে কবুল হবে।আমরা যেন আমাদের ভাব আবেগ সব ঢেলে দিতে পারি এই দোয়াতে।

আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যদি আমি “লাইলাতুল ক্বদ্র’’ জানতে পারি তাহলে সে রাতে কি বলব? 

তিনি বললেনঃতুমি বল 

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ কর, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও”।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস ৩৫১৩

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে আমল করার তৌফিক দান করুন।(আমীন) 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow