রমাদান মাসের ২৭ টি স্পেশাল আমল

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ তার নাক ভূলুন্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্ত সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভুলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ্‌ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্ত তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে কিংবা ‘‘যে কোন একজন’’ কথাটুকুও আছে। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৪৫

Mar 21, 2024 - 20:14
Apr 20, 2024 - 12:32
 0  7
রমাদান মাসের ২৭ টি স্পেশাল আমল

রমাদান মাসের ২৭ টি স্পেশাল আমল;

) রমাদানের চাঁদ দেখা; রমাদান মাস উপলক্ষে বিশেষ যে ২৭ টি আমলের কথা আমরা বলতে চাই আর প্রথম আমলটি হল চাঁদ দেখা। রমজানের চাঁদ শাবান মাসের শেষের দিনে আমরা পশ্চিম আকাশে তালাশ করব, অনুসন্ধান করব।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (ﷺ)বলেছেনঃ তোমরা  চাঁদ   দেখে  সিয়াম আরম্ভ করবে এবং  চাঁদ   দেখে  ইফ্‌তার করবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শা’বানের গণনা ত্রিশ দিন পুরা করবে।  সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৯

অতএব, মুসলমান রমজান মাসে সিয়াম সাধনা শুরু করবে চাঁদ দেখে এবং সিয়াম ছেড়ে ঈদ উদযাপন করবে সেটাও চাঁদ দেখে। আর এই চাঁদ দেখাটি নবীজি (ﷺ)এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। চাঁদ দেখতে গিয়ে যদি কেউ চাঁদ দেখতে পান তিনিও  সোয়াব পাবেন আর যদি আপনি চাঁদ দেখার জন্য তালাশ করেন কিন্তু চাঁদ দেখতে না পান তাহলে আপনিও সোয়াব পাবেন কারণ আপনি চেষ্টা করেছেন। চাঁদ দেখার একটি দোয়া নবীজি (ﷺ) শিক্ষা দিয়েছেন :-

اَللَّهُمَّ أَهْلِلْهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ رَبِّيْ وَرَبُّكَ اللَّهُ

হে আল্লাহ্‌! আমাদের জন্য চাঁদটিকে বারাকাতময় (নিরাপদ), ঈমান, নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করো। হে নতুন চাঁদ আল্লাহ্‌ তা'আলা আমারও প্রভু, তোমারও প্রভু।রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) নতুন চাঁদ দেখলে এ দোয়া বলতেন। রমযান ও সকল মাসের নতুন চাঁদ দেখে এ দোয়া পাঠ করা মাসনূন।  তিরমিজিঃ ৩৪৫১

অতএব, রমাদান কে কেন্দ্র করে আমাদের সর্বপ্রথম যে আমলটি হবে তা হলো শাবানের শেষ দিনে আমরা পশ্চিম আকাশে চাঁদ দেখার জন্য অনুসন্ধান করব ইনশাআল্লাহ।আজকাল আমরা বেশিরভাগ মানুষ চাঁদ তালাশ করি ফেসবুকে ইউটিউবে এবং বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা ফেসবুক ইউটিউব সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিউজ নিতেই পারি কিন্তু আমার একজন মুসলমান হিসেবে কর্তব্য হলো আমরা শাবানের শেষ দিনে পশ্চিম আকাশে চাঁদ তালাশ করব।আমরা যদি চার তালাশ না করি আমরা যদি চাঁদ না দেখি তাহলে চাঁদ দেখার কমিটি তারা কিভাবে চাঁদ ওঠার সংবাদ ঘোষণা করবে। অতএব,চাঁদ দেখা যে আমল যেটি আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। সে আমলটাকে আবার আমাদের পূর্ণজীবন দিতে হবে।প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় আমরা আনন্দ উৎসবের সাথে রমাদানের চাঁদ তালাশ করব এবং ঈদুল ফিতরের জন্য অন্যান্য মাসের জন্য আমরা চাঁদ তালাশ করব। কেউ যদি  চাঁদ না দেখে একটি এলাকায় তাহলে সকলেই গুনাগার হবে। কোনো না কোনো মানুষকে অবশ্যই চাঁদ দেখতে তা না হলে ফরজে কিফায়া তরক করার গুনাহগার সকলকেই হতে হবে।অতএব,রমাদানের প্রথম আমল হল শাবানের শেষ দিবসে আমরা পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যায় চাঁদ তালাশ করব, চাঁদ দেখতে পেলে দোয়া করব আর যদি চাঁদ দেখতে না পাই তবুও আমি সোয়াব পাব। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই আমলটা করার তৌফিক দান করুক। আমিন 

 ২) রমাদানের রোজা রাখা; রমাদানের দ্বিতীয় আমল হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল সেটা হল সিয়াম সাধনা করা রোজা রাখা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন নারী এবং পুরুষ তিনি যদি মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে তার ওপর আল্লাহ তায়ালা  রমাদানের দিনের বেলায় রোজা রাখা ফরজ করেছেন। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং পুরুষ যদি সুস্থ সবল হয়ে থাকেন আল্লাহ তা’আলার এই ফরজটাকে পালন করতে হবে। 

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন :- 

يٰٓـاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَيۡکُمُ الصِّيَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَۙ‏ 

অর্থ:-হে ঈমানদারগণ!তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা আয়াত নং ১৮৩) 

অতএব, রমজানের দিনের বেলায় রোজা রাখা হলো রমজানের সবচেয়ে বড় আমল। 

 ) তারাবিহর নামাজ পড়া;রমাদান মাস উপলক্ষে রাতের বেলায় তারাবির নামাজ আদায় করা।এটা হল রমাদানের তৃতীয় আমল।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি রমাযান মাসে ঈমানের সাথে ও একান্ত আল্লাহর সন্তষ্টির নিমিত্তে  তারাবীহ  পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (ই.ফা. ১৬৪৯, ই.সে. ১৬৫৬) সহিহ মুসলিম ১৬৬৪

অতএব এই রমজানের তৃতীয় আমলটি তারাবির নামাজ আমাদেরকে সুন্দরভাবে ধীরস্থিরভাবে উত্তম রুপে আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। এটা হল রমজানের তৃতীয় আমল। মা-বোনরা বাসা বাড়িতে নিজ জায়গায় এবং পুরুষরা মসজিদে জামাতের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করার চেষ্টা করবেন। এই তারাবির সালাত রমজানের তৃতীয় আমল।

 ) সাহরি খাওয়া; রমজানে চতুর্থ আমল হল সাহরি করা।আমরা অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে সাহারি করি না। হয়তো কখনো ভাল লাগেনা সাহারি করতে খাওয়ার রুচি থাকেনা আমরা সাহারি খাই না। সাহরি খাওয়া ছাড়াও যদি কেউ রোজা রাখে তাহলে রোজা হয়ে যাবে। কিন্তু সাহারি খেলে খাদ্য গ্রহণ করবেন পাশাপাশি আপনি সোয়াব লাভ করবেন।প্রতিদিনই আপনি খাবার খান এই সমস্ত খাবার খাওয়া জায়েজ কিন্তু এটার কারণে কোন সওয়াব হবে না যদি আপনি সাধারণ ভাবে খাবার খান। যদি আপনার নিয়ত হয় ভোররাতে আপনি খাবার গ্রহণ করছেন কেন রোজা রাখবেন সেজন্য। রোজার নিয়তে ভোররাতে যে খাবার খাচ্ছেন যেটাকে সাহারি বলা হয় এই খাবারটা খেলে আপনার শুধু পেট ভরবে তা নয় একটি সুন্নাহ পালন করার সওয়াব আপনার আমলনামায় লেখা হবে।

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাবে। কেননা সাহরীতে বরকত আছে। সুনানে ইবনে মাজাহ, ১৬৯২

)দেরি করে সাহরি খাওয়া; ৫ নাম্বার আমল হল সাহরিটা শেষের দিকে খাওয়া। এখনো অনেক মুরুব্বিরা আছেন গ্রাম অঞ্চলে তারা মাঝ রাতে সাহারি খেয়ে ফেলেন বারোটা একটার দিকে সাহারি খেয়ে ফেলেন। সেহরি খাওয়ার জন্য সবথেকে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ প্রহরে একেবারে শেষের দিকে। নবী করীম (ﷺ) তিনি রমজানের রোজার জন্য সাহারি খেতেন, সাধারণ রোজার জন্যও সাহারি খেতেন। এত দেরি করেই খেতেন যে তার খাবার খাওয়া শেষ হলে ফজরের ওয়াক্ত ফজরের আজান হওয়ার আগে মাঝখানে ৫০ টি আয়াত তেলাওয়াত করার মত গ্যাপ রাখতেন। তার মানে তার সাহরি খাওয়ার শেষ এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু এই দুইটার মধ্যে ৫০ টি আয়াত তেলাওয়াত করার মত সময় তিনি রাখতেন। তার মানে আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট সময় গ্যাপ রাখতেন তার সাহারী খাওয়ার পর।অতএব, সাহারি শেষ সময় খাওয়া সুন্নাহ তার মানে এটা না যে মোয়াজ্জিন আজান দিতে থাকবে  বা আজানের ২০-২৫ সেকেন্ড আগ পর্যন্ত  সাহারি খেতে থাকব এটা সুন্নাহ নয়, সুন্নাহ হল আযানের ২০-২৫ মিনিট আগে অর্থাৎ 50 টি আয়াত তেলাওয়াত করার মত সময় অন্তত গ্যাপ দিয়ে সাহারি খাওয়া। তাহলে শেষের দিকে সাহারি খাওয়া এটা হল রমজানের পঞ্চম আমল। আমরা অনেকেই শেষের দিকে সাহারি খাই না অনেক আগে খাই এ সাহারী শেষের দিকে খাওয়া সুন্নাহ।

যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে সাহারী খেয়েছেন, অতঃপর ফজরের সালাতে দাঁড়িয়েছেন। আনাস (রাযি.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ দু'য়ের মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিলো? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত করা যায়, এরূপ সময়ের ব্যবধান ছিলো। (সহীহ বুখারী ১৯২১)

মহানবী এর সাহাবাগণ খুব তাড়াতাড়ি (সময় হওয়া মাত্র) ইফতার করতেন এবং খুব দেরী করে সেহরী খেতেন। (বাইহাকী ৪/২৩৮, ইবনে আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ ৮৯৩২নং

) ইফতার করা;৬ নাম্বার আমল হল রমজান উপলক্ষে ইফতার করা। ইফতার মানে নাস্তা খাওয়া। সারা বছর আমরা দিনের বেলা শুরুতে নাস্তা খাই কিন্তু এর কারণে আমাদের আমলনামাই সোয়াব লেখা হবে এরকম কোন কথা বলা হয় নাই। কিন্তু রমজান মাসে যখন আপনি সন্ধ্যায় ইফতার খাবেন ইফতার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি একটি সুন্নাহ উপরে আমল করলেন এটার কারণে আপনার আমলনামায় একটি সোয়াব লেখা হবে। সওয়াব আশা যদি আপনার থাকে ইফতারের নিয়ত ইফতার যদি আপনার থাকে তাহলে এর মাধ্যমে আপনি একটি সওয়াব লাভ করবেন। এই ইফতার করা রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ইফতার যদি কেউ না করে তাহলে রোজা হয়ে যাবে কিন্তু একটি সুন্নাহ তরক হয়ে গেল। এজন্য ইফতারে যতটুকু তাওফিক হয় ততটুকু কিছু না কিছু মুখে দেওয়া এটা সুন্নাহ ।

) ইফতার তাড়াতাড়ি করা; সাত নাম্বার আমল হলো ইফতার তাড়াতাড়ি করা ইফতারটা বিলম্ব না করা। আমরা অনেকেই আছি ইফতার অনেক বেশি দেরি করি আমরা অনেকেই মনে করি যত দেরি করে ইফতার করা যায় ততোই বোধই  রোজাটা নিশ্চিত ভাবে শুদ্ধ হয় সঠিক হয় এটা ভুল ধারণা।

সাহল ইব্‌নু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন: লোকেরা যতদিন শীঘ্র ইফতার করবে [১], ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। সহিহ বুখারী,১৯৫৭

এক্ষেত্রে সাহারির মতো একই কথা  প্রযোজ্য যে দ্রুততা মানে এই নয় যে সেকেন্ড হিসাব করে ফেলতে হবে। তবে যতটুকু সম্ভব নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন সূর্য ডুবে গিয়েছে আর বিলম্ব না করে ইফতার করা এটা হল সুন্নাহ অনেকেই আমরা এবং এক্ষেত্রে  আমরা অনেক দেরি করি অনেক বিলম্ব করি চতুর্দিকে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর আমরা ইফতার করি। অতএব, রমাদানের ৭ নাম্বার আমল হলো ইফতার তাড়াতাড়ি করা। 

) ইফতারের সময় দুআ করা; আট নাম্বার রমজানের আমল হল ইফতারের দোয়া পড়া ইফতারের দোয়া আমরা অনেকেই জানিনা আবার অনেকেই জানলেও এটা কখন পড়তে হয় এটা জানি না। ইফতারের শুরুতে ইফতার بِسْمِ اللهِ বলে শুরু করতে হবে ইফতার করা শেষ এরপরে দোয়া করতে হবে। আমরা অনেকে ইফতারের আগে দোয়া করি এই দোয়া পড়তে হয় ইফতারের পরে দোয়াটা হল

নবী করীম (ﷺ) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন -

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

পিপাসা দূর হ’ল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হ’ল এবং নেকী নিশ্চিত হ’ল ইনশাআল্লাহ্‌’। আবু দাউদঃ ২৩৫৭

 এই দোয়াটি পাঠ করা সুন্নাহ আমরা ইফতারের পরে এই দোয়াটি পাঠ করব।  

) ইফতার ও সাহরিতে খেজুর খাওয়া; ৯ নাম্বার আমল হল ইফতার এবং সাহারি উভয়টিতে খেজুর খাওয়া এটা সুন্নাহ। খেজুরের মধ্যে প্রচুর খাদ্য শক্তি আছে। আমরা রমজান মাসে যে রোজা রাখি সারাদিন পানাহার বর্জন করে থাকি। আমরা যদি সাহারি থেকে খেজুর খাই তাহলে সারাদিন আমাদের দেহে খাদ্য শক্তি থাকবে। খেজুর একটা অনেক উপকারী খাবার। আমাদের দেশেও আজকাল খেজুর উৎপাদন হচ্ছে আল্লাহ তা’আলা মেহেরবানীতে। এই খেজুর ইফতারিতে নবী করীম (ﷺ) অর্ধেক পাকা অর্ধেক কাঁচা খেজুর যেটা অর্ধেক পেকেছে অর্ধেক কাঁচা এগুলো তিনি পছন্দ করতেন সেটা না পাওয়া গেলে সাধারন যে খেজুর সেটা দিয়ে ইফতার করা। এটা আমরা সবাই জানি কিন্তু যেটা জানিনা সেটা হলো সাহারিতে খেজুর খাওয়া  সাহারি খেজুর খাওয়া সুন্নাহ। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন ঈমানদারের সবথেকে উত্তম সাহারি হল খেজুর। আপনি সেহরিতে ভাত তরকারি যাই খান বা না খান অন্তত একটি খেজুর খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে নবীজি (ﷺ) এর একটি সুন্নাহর ওপর আমল হয়ে যাবে।

১০) রোজা অবস্থায় দুআ করতে থাকা; ১০ নাম্বার রমজানের যে আমল হলো সেটি দিনভর বেশি বেশি দোয়া করতে থাকা। রোজাদার ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তা'আলা ফিরিয়ে দেন না।রোজাদার ব্যক্তি দিনভর আল্লাহ তা'আলার কাছে দোয়া করতে থাকলে সেই দোয়া কবুল হয়। নবীজি (ﷺ) বলেছেন কয়েকজন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না এর মধ্যে একজন হল রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করা পর্যন্ত দোয়া কবুল হতে থাকে। আপনি রোজা থাকা অবস্থায় দোকানে কাজ করছেন,ক্ষেতে খামারে কাজ করছেন, আপনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, আপনি রাস্তায় হাঁটাচলা করছেন,মা-বোনরা বাসা বাড়িতে গৃহস্থলী কাজকর্ম করছেন এই কাজের ফাঁকে ফাঁকে  ওজু নেই সমস্যা নেই দোয়া করতে থাকেন, রোজা থাকা অবস্থায় দোয়া কবুল হয়। সারাদিন আপনি মনে মনে আপনার  চাওয়া গুলো আল্লাহ তা'আলার কাছে নিবেদন করতে থাকেন,আল্লাহ তা'আলার কাছে আপনি কথা বলতে থাকেন কারণ  দোয়া কবুলের উত্তম সময় এর মধ্যে একটি হলো রমজান মাস বিশেষ করে ইফতার এর আগ পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়।তখন আমরা অনেকেই ইফতার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। অতএব, আমাদের রমজান মাসে বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করতে হবে।

 ১১) সকল প্রকার গোনাহ বর্জন করা; ১১ নাম্বার রমজান মাসে বিশেষ আমল হলো সকল প্রকার পাপাচার বর্জন করা। কারণ রমজানের রোজার উদ্দেশ্যে হল আমরা যেন সকল পাপাচার  বর্জন করতে পারি রমজানে আমরা যে রোজা রাখি সেটাকে কুরআন এবং হাদিসের ভাষায় সিয়াম বা সাওম বলা হয়।সিয়াম বা সাওম অর্থ হল বিরত থাকা। আর এই বিরত থাকার মানে হল আমার সামনে পানির বোতল আছে, আমার সামনে খাবার আছে হালাল টাকায় কিনা, আমার  পেটে ক্ষুদা আছে, পিপাসাও আছে তারপরও আমি খাচ্ছি না পান করছি না কেন কারণ আল্লাহ তা'আলা নিষেধ করেছেন এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমার সামগ্রিক জীবনে সকল হারাম সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে আমাকে বিরত থাকতে হবে। সেই শিক্ষা সিয়াম আমাকে দেয় এজন্য এই সিয়ামের মাধ্যমে  হারাম বর্জন করা,আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করা, এই অভ্যাস রমজান মাসে গড়ে তুলতে হবে। নবী করীম(ﷺ) বিভিন্ন হাদিসে সে গুরুত্ব বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন :- 

يٰٓـاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَيۡکُمُ الصِّيَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُوۡنَۙ‏ 

অর্থ:-হে ঈমানদারগণ!তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা আয়াত নং ১৮৩)

অতএব, এ রমজানের 11 নাম্বার বিশেষ আমল হল সকল প্রকার পাপাচার, গুনাহ বর্জন করা যদি এটা কেউ না করে তাহলে তার রোজার কোন অর্থ হতে পারে না।

১২) ঝগড়া পরিহার করা; রমজানের ১২ নাম্বার আমল হল ঝগড়া থেকে বিরত থাকা।                           

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্‌র রসূল (ﷺ) বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার  সাথে   ঝগড়া  করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুই বার বলে, আমি সওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মিসকের সুগন্ধির চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ। সহিহ বুখারী, ১৮৯৪

অতএব, ফেসবুকে ফেসবুকের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়াতে অথবা অনলাইনে অফলাইনে যেকোনো জায়গায় আমরা রমজান মাসে বিশেষভাবে ঝগড়াঝাটি,গন্ডগোল,তর্ক বিতর্ক এগুলো আমরা পরিহার করে চলবো ।

১৩) মিথ্যা ত্যাগ করা; রমজানের ১৩ নাম্বার আমল হলো পাপাচারের মধ্যে বিশেষ করে মিথ্যা কথা, মিথ্যা কাজ, প্রতারণা এগুলো পরিহার  করে চলা। এগুলো  অন্য সময় পরিহার করতেই হবে রমজানে আরও বিশেষ ভাবে পরিহার করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ বর্জন করিনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করাই আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই (সহীহ বুখারী হাদিস: ১৯০৩) অর্থাৎ তার এই রোজা থাকাটা উপোস থাকা ছাড়া আর কিছুই নয় আর তার এই উপোস থাকাটা আল্লাহর কোন প্রয়োজন পড়ে নাই। অর্থাৎ তার রোজাটা কোন মানে নেই এই রোজা অর্থহীন হয়ে যাবে,যদি সে রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলে মিথ্যা কাজ করে।  এ জন্য রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো যে আমরা মিথ্যা কথা মিথ্যা কাজ করা বর্জন করব বিশেষ করে রোজা থাকা অবস্থায়।

১৪) বেশি বেশি ভালো কাজ করা; রমজানের ১৪ নাম্বার আমল হল সাধারণ যত আমল আছে  সাধারণ যত ভালো কাজ আছে এই মাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের সাথে করা। 

১৫) বেশি বেশি ইস্তেগফার করা; রমজানের ১৫ নাম্বার আমল হলো খুব গুরুত্বের সাথে ইস্তেগফার করা। আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চাওয়া কারণ আপনারা জানেন রমজান মাসে এসেছে আমাদের গুনাহ মাফ করানোর জন্য,রমজান মাস এসেছে আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করার জন্য। 

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তাআলা প্রতি ইফতারের অর্থাৎ প্রতি রাতে বেশ সংখ্যক লোককে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, ১৬৪৩

একজন ঈমানদার বান্দা এই আল্লাহ তা'আলার  সাধারন ক্ষমা ঘোষণার অফারটি নেওয়ার জন্য চোখের পানি ফেলে দোয়া করবেন,তিনি বিভিন্ন সময় দোয়া করবেন আল্লাহ রমজান মাস চলছে এটা গুনাহ মাফ করানোর সময়,এটা গুনাহ মাফ করানোর জন্য সুবর্ণ সুযোগ, আপনি আমার গুনাহগুলো মাফ করে দিন,আমার ভুল ত্রুটি মাফ করে দিন, সারা বছর আমি অনেক পাপ করেছি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার  আমলনামায় যতগুলো গুনাহ আছে সবগুলো মাফ করে দিন। আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তার নাক ভূলুন্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্ত সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভুলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ্‌ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্ত তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি (সে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি)। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে কিংবা ‘‘যে কোন একজন’’ কথাটুকুও আছে। জামে' আত-তিরমিজি, ৩৫৪৫

অতএব, রমজান মাসে যদি আপনি গুনাহ মাফ না করাতে পারেন তাহলে নবীজি (ﷺ)বদ দোয়া আপনার জন্য লাগবে। এজন্য যেকোনো মূল্যে রমজানের প্রতি রাতে প্রতিদিন চোখের পানি ফেলে একটু একটু করে হলেও দোয়া করে আল্লাহর কাছে নিজের গুনাগুলো মাফ করাইতে হবে,জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা আল্লাহর পক্ষ থেকে আদায় করে নিতে হবে।এটা হবে দোয়ার মাধ্যমে,মোনাজাতের মাধ্যমে,কান্নাকাটির মাধ্যমে চেষ্টার মাধ্যমে,আল্লাহর কাছে তওবা করার মাধ্যমে।আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুক।(আমিন)

১৬) মিসওয়াক করা; রমজানে রোজা রেখে দিনের বেলায় বেশি বেশি মেসওয়াক করবেন।আমরা অনেকেই এটা জানিনা।যে রমজানের রোজা রেখে মেসওয়াক করা যায়,আমরা অনেকেই রোজা দুর্বল হওয়ার ভয়ে মেসওয়াক করিনা।তাই আমাদেরকে রোজা রেখে বেশি বেশি মিসওয়াক করতে হবে। 

১৭) উমরা করা; আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে সামর্থ্য দিয়েছেন তারা রমজান মাসে ওমরা করার চেষ্টা করবেন। রমজান মাসে  ওমরাহ করার ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে; 

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমদানের একটি উমরা একটি হাজের সমতুল্য। সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৯৯৪

অতএব,যাদের তৌফিক আছে তারা রমজানে ওমরা করবেন।

১৮) তাহাজ্জুদ পড়া ও দুআ করা; রমজান ইবাদতের মৌসুম।রমজানের সাহারির সুবাদে তাহাজ্জুদ পড়া খুবই সহজ।সাহারি সময় তাহাজ্জুদের সময়।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, আর রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়, ওটা তোমার জন্য নফল, শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন। (সূরা ইসরা ১৭:৭৯)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মুয়াজ্জিন আমাদেরকে ডাকেন কিন্তু তাহাজ্জুদের নামাজের সময় স্বয়ং আল্লাহ আমাদেরকে ডাকেন। 

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি রাত্রে শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মর্যাদাবান বারাকাতপূর্ণ রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ’যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব। যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দেব।’ (বুখারী, মুসলিম)[1]

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, তারপর তিনি হাত বাড়িয়ে দেন এবং বলেন, কে আছে যে এমন সত্তাকে কর্য দেবে যিনি ফকীর নন, না অত্যাচারী এবং সকাল পর্যন্ত এ কথা বলতে থাকেন।

 বুখারী ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮।

১৯) রোজাদারকে ইফতার করানো; রমজানের ১৯ নম্বর বিশেষ আমল হল রোজাদারকে ইফতার করানো। 

যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন  রোজাদার কে  ইফতার করাবে,সে (রোজাদারের) সমান নেকীর অধিকারী হবে। আর তাতে  রোজাদারের নেকীর কিছুই কমবে না।” রিয়াদুস সলেহিন, ১২৭৩

তাই রমজানের চেষ্টা করা কোন রোজাদার ব্যক্তি কে বেশি বেশি ইফতার করানো। 

২০) বেশি বেশি সাদাকা করা; ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল রমাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।

 তাই পবিত্র এই রমজান মাসে আমাদেরকে বেশি বেশি দান সদকা  করার চেষ্টা করতে হবে।

২১) শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করা; রমজানের শেষ দশকের বেশি বেশি ইবাদত  বন্দেগী করা।আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, 

তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত, তখন নবী (ﷺ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার–পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।

তাই আমাদের রমজানের শেষ দশাকে বেশি বেশি ইবাদত করতে হবে। 

২২) শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা;

আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, 

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান কর।(সহীহ বুখারি ২০১৭)

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, 

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তাঁর পিছনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমযানে রোযা পালন করবে, তাঁরও অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে।(সহীহ বুখারী ১৯০১)

অতএব,শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য বেশি বেশি ইবাদত করা।

২৪) কুরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করা; রমজানের বিশেষ গুরুত্বের সাথে কোরআন তেলাওয়াত করা।কারণ রমজান মাসের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন;

রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। (সূরা বাকারা ২:১৮৫)

এজন্য রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন কোরআন এর মজলিস এ  বসার চেষ্টা করবেন। 

২৫) অন্যকে কুরআন শুনানো; রমজানে কোরআন তেলাওয়াত এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে অন্যকে কোরআন শোনানো।আল্লাহর নির্দেশে পবিত্র রমজান মাসে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরো কোরআন পড়ে শোনাতেন আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন এবং তিনি তা তেলাওয়াত করতেন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সাল্লাম তা শুনতেন।

তাই পবিত্র এই মাসে আমাদের পরিবারের নিজেদের বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কুরআন শোনানো ও শোনার প্রতিযোগিতা করা উচিত।এছাড়াও কুরআনের অর্থ ব্যাখ্যা সহ বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

২৬) ইতেক্বাফ করা; রমজানের শেষ দশ দিনে ইতেক্বাফকরা।যাদের তৌফিক আছে তারা মসজিদে ইতেক্বাফে বসে যাবেন।নবী (ﷺ)কখনো ইতেক্বাফের আমলটি ছাড়েননি।

ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত,

তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ(ﷺ)  রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (মুসলিম ১১৭১)

 অতএব, আমাদেরকে রমজান মাসে শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করার চেষ্টা করতে হবে। 

২৭) সদকাতুল ফিতর আদায় করা; রমজানের শেষ আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায় করা যেটা দিয়ে আমরা রমজানকে বিদায় দিব।(আব্দুল্লাহ) ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, 

নবী (ﷺ) লোকদেরকে ঈদের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দেন।(সহীহ বুখারী ১৫০৯)

আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে বোঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন।(আমিন)

বক্তা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow