রমজান মাসের ২৪ ঘন্টার রুটিন

রমজান মাস একজন মুমিনের জন্য আমল এবং ইবাদতের জন্য ভরা বসন্ত।বছরের অন্য সময়ের আমল এবং ইবাদত এর ঘাটতি পূরণ করার জন্য রমজান মাস হল মোক্ষম সুযোগ।এজন্য রমাদানকে সবথেকে পরিকল্পিত এবং রুটিন মাফিক কাটাতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ রমজান আমাদের অর্থবাহ হবে এবং সারা বছরে আমলের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সহায়ক হবে।তাই আজ আমরা রমজানের ২৪ টা ঘন্টা কিভাবে কাটাবো সেই প্রসঙ্গে রুটিন প্রস্তাব করব ইনশাল্লাহ।

Mar 14, 2024 - 07:23
Apr 20, 2024 - 12:33
 0  25
রমজান মাসের ২৪ ঘন্টার রুটিন

1.রমাদানের রুটিন প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম যে সময় নিয়ে কথা বলব,তা হল সাহারি খেতে উঠা বা ভোর রাতের সময়টা। ভোররাতে আমাদের উঠে সাহারি খাওয়া এটা সুন্নাহ।কেউ যদি মধ্যরাতে অতিরিক্ত খান বা শুরু রাতে অতিরিক্ত খান তারপর যদি তার  সাহারি খাওয়ার মন না থাকে  তাহলেও সাহারি খেতে উঠা কারণ এটি সুন্নাহ।

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাবে। কেননা সাহরীতে বরকত আছে। [১৬৯২]

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৬৯২

অর্থাৎ, এ খাবারে বরকত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে খেজুর খাওয়ার কথা বিভিন্ন হাদিসে রয়েছে।আমরা সাহারিতে যাই খাই অন্তত একটি খেজুর খাব।সাহারি খেতে আমরা যখন উঠবো কমপক্ষে  সাহারি খাওয়ার আগে যাতে আধা ঘন্টার মত আমরা সময় পাই সেভাবে আমরা উঠবো। কারণ, একজন মুমিনের কাছে 24 ঘন্টার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ভোর রাতের সময়টা। কারণ এই সময়ে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসে আল্লাহ তাদেরকে ডেকে ডেকে তাদেরকে ক্ষমা করে থাকেন তাদের  চাওয়া গুলো পূরণ করে থাকেন। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য সবথেকে মোক্ষম  সময় হল এটি। এজন্য তাহাজ্জুদের সালাত যত নফল নামাজ আছে তার থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ। তাহাজ্জুদের নামাজ বছরে অন্য কোন সময়ে আমরা হয়তোবা  গুরুত্বের সাথে পড়তে পারি না। রমাদান মাসে আমাদের সকলের জন্য তাহাজ্জুদ  পড়া সহজ কারণ আমরা  সাহারি খেতে উঠছি। এক্ষেত্রে এই সুযোগটাকে কাজে লাগানো উচিত।৩০ টা দিনই আমাদের একটা সময় বরাদ্দ থাকা উচিত তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য।আমরা দুই দুই রাকাত করে তাহাজ্জুদ পড়বো বিশেষ কোন সূরা নির্ধারণ করা নেই যেকোনো সুরা দিয়ে আমরা সাধারণভাবেই পড়বো,এবং তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ছি শুধু এতটুকুই নিয়ত থাকলেই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটা  রাকাত খুব দীর্ঘ করার চেষ্টা করব। দাঁড়িয়ে লম্বা  কেরাত পড়ার চেষ্টা করব। আস্তে আস্তে পড়ার চেষ্টা করব,এবং খুব বেশি লম্বা কেরাত মুখস্ত না থাকলে একটা সূরাই বারবার পড়তে পারব কোন সমস্যা নেই,এবং রুকুতে যখন যাব তখন তাসবিহ আস্তে আস্তে পড়বো,রুকু থেকে দাঁড়িয়ে আবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করব,সেজদা লম্বা করে করব,উঠে বসে আবার অপেক্ষা করব এভাবে প্রত্যেকটা  রাকাত যত সুন্দর ভাবে  ধীরস্থিরভাবে করব ততই তাহাজ্জুদের নামাজ এর মান বাড়বে এবং অন্যান্য নামাজের মান বাড়বে।এজন্য রমজানের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় টা যেটা আমার কাজে লাগাতে পারি খুব সহজেই  অথচ আমরা অনেকেই এই সময়টিকে হেলাই নষ্ট করি।সেটা হলো ভোর রাতে  সাহারি  খেতে ওঠার কিছুক্ষণ আগে আপনি তাহাজ্জুদ পড়ুন এবং পরিবারের সকল সদস্যকে উৎসাহ করুন যেন এই আমলটি করে। এরপরে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার পরে আমরা সাহারী খেয়ে ফেলবো।সাহারি খেতে খেতে আযানের সময় পর্যন্ত নিয়ে যান এটা উচিত না।আযানের ঠিক আগ মুহূর্তে সাহারি খাওয়া শেষ করা এটা সুন্নাহ বিরোধী কাজ।সুন্নাহ হল একটি হাদিসে এসেছে 

যায়দ ইবনু সাবিত (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা নবী (ﷺ) -এর সঙ্গে সাহারী খেয়েছেন, অতঃপর ফজরের সালাতে দাঁড়িয়েছেন। আনাস (রাযি.) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ দু'য়ের মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিলো? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত করা যায়, এরূপ সময়ের ব্যবধান ছিলো। (সহীহ বুখারী ১৯২১)

অতএব,নবী (ﷺ)এত আগে সাহারি খেয়ে শেষ করতেন। আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় আমরা বলতে পারি।এই টাইমটাতে আমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে আমরা দোয়া করতে পারি।এটা দোয়ার সময় দোয়া কবুলের সময়,তাই আমাদের  সাহারি খাওয়া শেষ হলে আমরা দোয়াই মাশগুল হয়ে যাব অথবা খাওয়ার আগেও দোয়া করতে পারি,কিন্তু আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত চোখের পানি ফেলা উচিত। দোয়ার জন্য সবথেকে উত্তম হবে নির্জনে কোথাও চলে যেতে পারি প্রয়োজনে বাসার ছাদে  চলে যাওয়া যেতে পারে।প্রয়োজনে বাসার কোনটি কোনায়  চলে যাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনের কোন একটি কক্ষে যেখানে কেউ নেই  সেখানে আমরা নিরিবিলি আল্লাহর কাছে আমাদের চাওয়া গুলো পেশ করতে পারি,চোখের পানি ফেলতে পারি, এবং আমাদের সার্বিক চাউল আল্লাহ তা’আলার কাছে পেশ করতে পারি। এটা হল রমজানের রুটিনের মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়। 

2.এরপরে যখন আজান হয়ে যাবে তখন আমরা দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করব সুন্নত পড়ার পরে নবী (ﷺ)এর সুন্নত ছিল ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পরে তিনি কিছুটা বিছানায় মাথা রাখতেন ঘুমাতেন না কিন্তু কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম করতেন,সেটা দুই চার মিনিট হতে পারে।আমরা যদি কিছুক্ষণের জন্য বিছানায় গড়াগড়ি কিংবা মাথা রেখে বিশ্রাম নেই তাহলে  সুন্নাহ টি আদায় হয়ে যাবে।এরপর উঠে আমরা ফজরের ফরজ নামাজ পড়ার পর আপন জায়গায় যেখানে নামাজ পড়েছি সেখানে বসে থাকবো এবং সম্ভব হলে সূর্য ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করব সূর্য ওঠা পর্যন্ত সকাল সন্ধ্যার যে  জিকির গুলো আছে সেগুলো পড়বো এবং সূর্য ওঠা পর্যন্ত আপন জায়গায় বসে থাকবেন সূর্য ওঠার দশ পনেরো বিশ মিনিট পরে আপনি দুই রাকাত নামাজ  পড়বেনসেটা সালাতুল ইশরাক।এ নামাজটা আপনি পড়ার কারণে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ওমরার সোয়াব দেবেন।হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,যে ফজরের পরে আপন জায়গায় বসে থেকে যদি  এভাবে জিকির আজগার করা হয় এবং শেষে যদি দুই রাকাত নামাজ পড়া হয় অর্থাৎ সালাতুল  ইশরাক তাহলে এর মাধ্যমে আমরা  এই সোয়াবটি পাব।এটা অনেক রোজাদার আমরা মিস করি।আমরা ফজরের পরপর শুয়ে পড়ি।এটা অন্তত ভুল একটি কাজ।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,” দিনের শুরুতে এবং শেষে তোমরা আল্লাহর পবিত্র বর্ণনা কর” 

অতএব দিনে এবং রাত্রে আমরা তাহজ্জুদের সময়টা অর্থাৎ ভোর রাতের সময়টা পরে যদি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা বলি তাহলে সেটি হল ফজরের পরে সময়টা। অথচ আমরা রমজান মাসে বেশিরভাগ রোজাদার ব্যক্তি ফজরের পরে শুয়ে যায় এটি ভুল।যদি শুতে হয় ঘুমাতে হয় তাহলে আমরা সেটি কিছুক্ষণ পরে ঘুমাবো।ফজরের পরপর ঘুমাবো না জিকির এবং তাসবীহ তেলাওয়াতে  মাসগুল থাকবো ইনশাআল্লাহ। 

3.এরপর যদি আমরা  ঘুমাই তাহলে সেটি  লিমিট থাকা উচিত।যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু বিশ্রাম বা ঘুমিয়ে নিবেন। এরপর ঘুম থেকে উঠার পরে কুরআন তেলাওয়াত করা এবং ঘুম থেকে উঠে তেলাওয়াত করা সব থেকে ভালো কারণ ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষের মন মানসিকতা থাকে  অন্তত ফ্রেশ।এরপর যদি আমরা কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করি  অর্থ সহকারে বোঝার চেষ্টা করি কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করে পুরোটা একবার বা একাধিকবার পড়ে শেষ করব বা খতম দেবো ইনশাআল্লাহ সেরকমই ভালো হবে এবং এটি সুন্নাহ।কিন্তু এর পাশাপাশি অর্থ বোঝার চেষ্টা করি তাহলে সেটি হবে আরো ভালো।প্রতিদিন আমি অন্তত অর্থ এবং ব্যাখাসহ পরি বা কোন একটি  আলেমের তত্ত্বাবধানে  হলে আরো বেশি ভালো হয়।যদি আমরা কোরআনকে বোঝার চেষ্টা করি এবং সেটা ঘুম থেকে ওঠার পরে হতে পারে তেলাওয়াত হতে, এবং অর্থ ও ব্যাখ্যা সহকারে একটা পৃষ্ঠা অধ্যায়ন করা হতে পারে।

4.এরপরে আমরা কিছু সময়ের জন্য আমরা ইসলামিক বই-পুস্তক পড়তে পারি বিশেষ করে  ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহিঃ)যে বইগুলো আছে এগুলো ইসলামের বেসিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে অনেক বেশি সহায়ক।এই বইগুলো আমাদের কাছে থেকে থাকলে আমরা এগুলো পড়তে পারি অনলাইনে পিডিএফ কপি পাওয়া যায় অনেকগুলো সেগুলো ডাউনলোড করে আমরা কিছু সময় পড়বো।

5.এরপরে যখন যোহরের আযান হবে বা যোহরের ওয়াক্ত হবে জোহরের এখানে দুই রাকাত নামাজ আছে যেটাকে জাওয়ালের নামাজ বলা হয়।রমজান মাসে এই আমলটি করার জন্য সবচাইতে সেরা সুযোগ আমাদের হাতে থাকে। যাইহোক,এই নামাজ যদি আমরা পড়তে পারি তাহলে পড়ব।তারপরে জোহরের নামাজের  সময় হলে জোহরের নামাজের সুন্নত.ফরজ পরবর্তীতে দুই রাকাত সুন্নত এবং পরবর্তীতে দুই রাকাত নফল এটা অন্য সময় পড়া হয়না সেটাও গুরুত্বের সাথে পড়ব।ধিরস্থেরতার সাথে প্রত্যেকটি নামাজ আমরা আদায় করব। এবং ফরজ নামাজের পরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে নবী (ﷺ) এর যে দোয়াগুলো আছে সেই দোয়াগুলোকে খুব গুরুত্বের সাথে আন্তরিকতার সাথে পড়ার চেষ্টা করব। যেভাবে নবী (ﷺ) পড়েছেন। 

6.এরপরে বাকি সময়টাতে আমরা যদি বাসা বাড়িতে অবস্থান করি তাহলে সে ক্ষেত্রে তাহলে এই বাসা বাড়িতে যারা কাজ করছে তাদের কাজ একটু  সাহায্য করব।কারণ নবী (ﷺ) বাসা বাড়িতে মা বোনদের কাজে সাহায্য করতেন।অতএব,আমরা বাসা বাড়িতে থেকে কাজে সাহায্য করবো সেটাও এবাদত হিসেবে গণ্য হবে।(ইনশাল্লাহ) পরিবারের সদস্যদের কে নিয়ে একটা সময়  বসতে পারি তাদেরকে নিয়ে একটি হাদিস আমরা পাঠ করে শোনাতে পারি,পারস্পরিকভাবে  পর্যালোচনা করতে পারি, তাদেরকে নসিহত করতে পারি, তাদের জীবন গড়ার জন্য আমরা উপদেশ দিতে পারি, এবং বিভিন্ন সাহাবীদের ঘটনা তাদেরকে পড়ে শোনাতে পারি।  জোহরের পরে আমরা সময়টা এভাবে কাটাতে পারি এরপরে দুপুরে বিশ্রাম করা সুন্নত সেটা খুব সংক্ষিপ্ত হতে পারে,কিন্তু একটু  শুলে  আমার  সুন্নাহটা আদায় হয়ে গেল। এরপর শোয়া থেকে উঠে  আমারা আবারও তেলাওয়াত কিংবা অন্যান্য বই বস্তু পড়ায় লেগে যেতে পারি। আসর নামাজের পরে মাগরিব পর্যন্ত এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ দিনের শুরুতে এবং শেষে তাজবীহ পাঠ করতে বলা হয়েছে। সন্ধায় যে জিকিরগুলো কোরআন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত রয়েছে, সেগুলোকে আমরা আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পাঠ করতে পারি। এমনকি এক জায়গায় বসে না থেকে আমাদের ইফতার আয়োজন করতে করতেও আমরা এই দোয়াগুলো পড়ে ফেলতে পারি। যদি মুখস্ত না থাকে তাহলে সকাল সন্ধ্যা যে বইগুলো আছে সেগুলো দেখে দেখে পড়া। নিয়মিত পড়া হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ দোয়া এবং জিকির গুলো মুখস্ত হয়ে যাবে। পাশাপাশি সবাইকে উৎসাহিত করবো যাতে সকলেই এই আমলগুলো করে । সন্ধ্যায় অর্থাৎ দিনের শেষে আল্লাহ তা’আলা তাসবিহ বর্ণনা করা এটা আল্লাহ তা’আলা কাছে খুবই পছন্দ। তাই আমরা সবাই করব । এবং অবশ্যই আসরের নামাজের পরে যেগুলো দোয়া তাসবীহ আছে সেগুলো অবশ্যই আমরা পাঠ করবো সেগুলো যেন আমরা না ভুলে যাই। যখন মাগরিবের আজান দিবে অর্থাৎ ইফতারের সময় হবে তখন বিলম্ব না করে দ্রুত সাথে ইফতারি শুরু করা। ইফতার দ্রুত করা এবং সেহরি শেষের দিকে করা এটা সুন্নাহ। এবার আমাদের কল্যাণের জন্য বলা হয়েছে।  ইফতার এবং সেহরিতে যেন আমরা অখাদ্য না খাই সুন্নাহ মোতাবেক ও স্বাস্থ্য সমস্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করব।এবং খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নাহ। যদি সম্ভব হয় খেজুর দিয়ে ইফতার করব। ইফতারের পরে দোয়া করব দোয়াটি হল 

নবী করীম (ﷺ) যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন -

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

পিপাসা দূর হ’ল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হ’ল এবং নেকী নিশ্চিত হ’ল ইনশাআল্লাহ্‌’।

আবু দাউদঃ ২৩৫৭

ইফতারের দোয়া পড়লাম ইফতার করলাম এরপর আমরা মাগরিবের নামাজ আদায় করবে ইনশাআল্লাহ। মাগরিবের নামাজের পরে সময়টা আমরা তারাবিতে যে পাড়া আজকে তিলাওয়াত করব বা অংশ তিলাওয়াত করব। অর্থ ব্যাখ্যা যদি সম্ভব হয় দেখে নিলে ভালো হয় আর যদি খতম তারাবির সুযোগ না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে অন্তত এই টাইমটাতে মাগরিব থেকে এশা কোন অবস্থাতেই শোবো না। কারণ আমাদের অনেকেরই অভ্যাস আছে রমজান মাসে ইফতারের পরে শরীরটা ক্লান্ত হয় তারপর আমরা অনেকে শুয়ে পড়ি।

 আবূ বারযাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি  বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ‘ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।  

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৮

এজন্য এশারের আগের সময়টাতে আমরা ঘুমাবো না। যত সম্ভব এবাদত বন্দেগী,কুরআন তেলাওয়াত বা ইসলামিক বই-পুস্তক পড়া,ইসলামিক লেকচার  শোনা এগুলোর পিছনে আমরা সময় ব্যয় করব।কোন অবস্থাতেই আমরা এই সময়টাতে ঘুমাতে যাব না। যাইহোক এরপরে এশার নামাজ আদায় করে তারাবির নামাজ আদায় করে খুব  ধীরস্থিরতার সাথে তারাবির নামাজ আদায় করব। খুবই আস্তে আস্তে করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। রাতের খাবারটা এশার আগে খেয়ে ফেললে ভালো হয়।যদি এশয়ের পরেও খাই তাহলে বিলম্ব না করে এশার পরে দ্রুত শুয়ে পড়বো। এশার পরে কোন কাজ না করাই উত্তম। কারণ,আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।তবে হ্যাঁ এশার পরে স্বামী-স্ত্রীর কথাবার্তাকে প্রশংসনীয় বলেছেন।সচরাচর আড্ডা এগুলা আমরা করতে যাব না টেলিভিশনে সময় নষ্ট করবো না আমরা শুয়ে পড়বো ইনশাআল্লাহ। পরিকল্পনা করে কুরআনুল কারীমের জন্য প্রতিদিন এক পারা এক পারা করে বা দের পারা করে দুই পারা করে যার যতটুকু  সম্ভব হয় পড়া। আমরা বরাদ্দ করব এবং সে অনুযায়ী আমরা প্রতিদিন ইনশাআল্লাহ করে আন তেলাওয়াত করে যাব। এবং সময় ঠিক করে নেব যে কখন আমি কোরআন তেলাওয়াত করব।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই রমজানে বেশি থেকে বেশি উত্তম থেকে উত্তম আমল করার তৌফিক দান করুন।(আমিন) 

বক্তা: শায়খ আহমাদুল্লাহ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow