যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

প্রতি বছর রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ -সুরা বাকারা : ১৮৩ কোন কোন কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না, তা জানিয়েছে ডঃ মিজানুর রহমান আজহারী

Mar 18, 2024 - 09:42
Apr 13, 2024 - 16:28
 0  50
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না

 

1.ভুল করে যদি কেউ খায় বা কাউকে যদি জোর করে খাওয়ানো হয়। 

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রোযা পালনকারী যদি ভুলক্রমে খায় বা পান করে তবে, সে তার রোযা পূর্ণ করবে। কেননা আল্লাহ তা’আলাই তাকে আহার করিয়েছেন ও পান করিয়েছেন।

হাদীসের ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রোযার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে তার রোযা নষ্ট হবে না। তবে রোযা স্মরণ হওয়ামাত্রই পানাহার ছেড়ে দিতে হবে।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৮৭ (আন্তর্জাতিক নং ১১৫৫)

হাদীসের বর্ননাকারী: আবু হুরায়রা (রাঃ)

2.স্বপ্নদোষ(Wet dream)হলে। স্বপ্নদোষ হলে গোসল ফরাজ হয়।

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌(ﷺ) বলেছেন, তিনটি জিনিস রোযা ভঙ্গ করে নাঃ রক্তমোক্ষণ, বমি ও স্বপ্নদোষ।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭১৯

3.রক্ত পরীক্ষা করলে।

4. অনিচ্ছাকৃত বমি করলে।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযা থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তার জন্য কাযা আদায় করা জরুরী নয়। অবশ্য যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তবে সে যেন কাযা আদায় করে।

 হাদীসের ব্যাখ্যা:এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, অনিচ্ছায় মুখ ভরে বমি হলে রোযা ভাঙ্গবে না। ইচ্ছেকৃত বমি করলে মুখ ভরে হলে ভেঙ্গে যাবে। মুখ ভরে না হলে ভাঙ্গবে না। ইচ্ছেকৃত হল মুখে আঙ্গুল দিয়ে এভাবে কোন পদ্ধতিতে ইচ্ছেকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। অনিচ্ছায় হলে বা ইচ্ছেকৃতি মুখ ভরে না হলে রোযা ভাঙ্গবে না।

 সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৭২ (আন্তর্জাতিক নং ২৩৮০)

হাদীসের বর্ননাকারী: আবু হুরায়রা (রাঃ) 

5.নাক দিয়ে রক্ত পড়লে।

6.দাঁত ফেললে। তবে প্রচুর পরিমাণের রক্ত বের না হয় সেটা খেয়াল রাখবেন।

7.রোজা রেখে ইনজেকশন দেওয়া। তবে কিছুকিছু ইনজেকশন দেওয়া যাবে কিছু কিছু  ইঞ্জেকশন দেওয়া যাবে না।যে ইনজেকশনে খাদ্য সম্পূরক  থাকে সেই ইনজেকশন দেওয়া যাবে না।তবে ব্যথানাশক  ইনজেকশন দেওয়া যাবে।

8.রোজা অবস্থায়  টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে।আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোযাই নষ্ট হয়ে যাবে।তাই  রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ না।করলেই ভালো দিনের বেলায় মেসওয়াক করা। 

9. পারফিউম বা আতর দিলে। 

10.চোখের ড্রপ দিলে।

11. ইন্সুলেন্স দিলে।

12.খাবারের লবণ বা মসলা যাচাই করা। লবণ বা মশলা যাচাই করতে পারবেন, তবে করে সাথে সাথে কুলি করে নিতে হবে। বহু মানুষের জন্য ইফতার তৈরি করছে এমন সময় খাবারের লবণ পরীক্ষা করার জন্য আপনি তা জিব্বার আগায় হালকা সামান্য দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন এবং সাথে সাথে তা মুছে ফেলতে হবে এদেরকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। আপনি চাইলেই বাসার খাবার বা পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করছেন বা অল্প কয়েকজন ব্যক্তির জন্য খাবার তৈরি করছেন এই অবস্থায় আপনি লবণ বা মসলা পরীক্ষা করতে পারবেন না। 

13.কানের ড্রপ দেওয়া।তবে এটা রোজা অবস্থায় না দেওয়াই ভালো। ইফতারের পরে বা সাহরির আগে এটা আপনি দিতে পারেন।

14.রক্ত দান করলে।তবে এত বেশি রক্ত দান না করা যাতে আপনি দুর্বল হয়ে পড়েন।

15. রোজার দিনে স্ত্রীকে চুমু খাওয়া

বীর্যপাত ঘটা বা সহবাসে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে রোজার দিনে স্ত্রীকে চুমু খাওয়া জায়েজ। তবে কামভাবের সঙ্গে চুমু খাওয়া যাবে না। আর যুবকদের যেহেতু এমন আশঙ্কা থাকে, তাই তাদের এটা এড়িয়ে চলা উচিত।

(মুসনাদে আহমদ: ২/১৮০ ও ২৫০, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২০০)।



What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow