ঈমান ভঙ্গের ১০ কারণ

আমরা অনেকে নামাজ ভঙ্গের কারণ জানি ওযু ভঙ্গের কারণ জানি কিন্তু ঈমান ভঙ্গের কারণ জানিনা। ঈমান ভঙ্গের কারণ ওলামায়ে কেরাম নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। মৌলিক ব্যাখ্যা খুব কম। এর মধ্যে প্রসিদ্ধ একটি ব্যাখ্যা হল যে ঈমান ভঙ্গের দশটি কারণ আছে।

Mar 18, 2024 - 20:16
Apr 19, 2024 - 08:29
 0  12
ঈমান ভঙ্গের ১০ কারণ

1.শিরকে আকবর করা,আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা।আল্লাহকে যেভাবে ইবাদত করছেন সে একই ভাবে কোন পীর সাহেব কোন কবরকে করছেন।আপনি আল্লাহকে যেভাবে উপাসনা করছেন ঠিক সেভাবেই যদি আপনি কোন মানুষকে করেন,আল্লাহকে যেভাবে ইবাদত নিবেদন করছেন একইভাবে অন্য মানুষ,ব্যক্তি বস্তুকে করেন।যেভাবে মুশরিকরা কোন মূর্তির সামনে  ইবাদত করে সেই রকম  শিরকে লিপ্ত হয়  মুশরেক হয়ে যায়,ঠিক তেমনি মুসলমানের সন্তান যদি শিরকে আকবর করে তাহলে সেই ক্ষেত্রে সে মুশরিক হয়ে যায়।এই  শিরক অর্থাৎ  শিরকে আকবর এটা ঈমান ভঙ্গের কারণ। 

2.আল্লাহর সাথে বান্দার যদি কোন মিডিয়া সাব্যস্ত করেন।কিরকম মিডিয়া,যে  একে ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যাবে না।যেমন আমাদের অনেক ধর্মের ভাইরা মনে করেন যে আল্লাহকে পাইতে হলে সরাসরি পাওয়া যাবে না কোন দেবতা ধরতে হবে।এজন্য অনেক  দেবতাকে পূজা করে তারপরে আল্লাহ পর্যন্ত যেতে হবে।ঈমানদার যদি মনে করে আল্লাহকে পেতে হলে বিভিন্ন পীর আছে এগুলোকে ধরতে হবে।উনাদেরকে  ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যাবে না।এরকম যদি মনে হয় এবং আল্লাহর  ইবাদতটা তাদের মাধ্যমে করে।তাহলে সেটাও ঈমান ভঙ্গের কারণ।

3.যদি কেউ মনে করে যে ব্যক্তি অমুসলমান,কাফের,ভিন্ন ধর্মের অনুসারী,ইমান আনে নাই মনে করে না তারটাও ঠিক আছে তাহলে এই লোক বেইমান এই লোক ঈমানদার না।এটি ঈমান ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার মত কারণ একটা লোক আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী আপনি বললেন যে না তারটাও ঠিক আছে।আমাদের অনেক মুসলমান ভাই আছে আজকাল তাদের বিশ্বাসগুলো দুর্বল বিশ্বাস হয়ে গিয়েছে।কিরকম সেটা বলে যে সব ধর্মই ঠিক আছে।এটি  ঈমান ভঙ্গের কারণ।

4. যদি কেউ মনে করে নবী করীম (ﷺ)এর আদর্শের বাইরে আরো অন্য কোন আদর্শ উত্তম আছে এটা  ঈমান ভঙ্গের কারণ হতে পারে। 

5.যদি কেউ নবী করীম (ﷺ)  যত বিধি-বিধান নিয়ে এসেছে  এর কোন টাকে অস্বীকার করে অপছন্দ করে ঘৃণা করে না এটা আমার ভালো লাগেনা। ইসলামের সব জিনিস ভালো লাগে কিন্তু একটি জিনিস আমার ভালো লাগেনা।এজন্য কেউ যদি আল্লাহর কোন নির্দেশকে রাসূলুল্লাহ(ﷺ)এর কোন বিধি-বিধানকে অপছন্দ করে ঘৃণা করে  এর ফলে ঈমান চলে যায়।

6.ইসলামের শত্রু যারা তাদেরকে যারা সহযোগিতা করে ইসলামের শত্রুতা করার জন্য এরা   মুনাফিক এর ফলে ঈমান ভঙ্গ হয়।

7.কিছু মানুষ আছে যারা ইসলামের বিধি-বিধানের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে  এদের নামাজ-কালাম পড়া লাগে না,অনেক পীর সাহেব দেখবেন তারা নামাজ পড়ে না যে বলে বাবার এগুলো করা লাগেনা বাবা অনেক  ঊর্ধের  জগতের মানুষ।এই বাবা এত উর্ধ্বে উঠে গেছে যে তার নামাজ পড়া লাগে না,কিন্তু নবী (ﷺ) তিনি মৃত্যুর আগ মুহূর্তে দুইজন সাহাবীর কাঁদে দুই হাত দিয়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদে  গিয়ে নামাজ পড়ার শক্তি ছিল না।তখন দুই সাহাবীর কাঁধে দুই হাত ভর করে তিনি দাঁড়িয়ে তাদের ওপর ভার ছেড়ে দিয়ে পাটাকে মাটিতে  টানতে টানতে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েছেন।আর কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের নামাজ পড়া লাগে না।যাইহোক যদি কোন ব্যক্তি মনে করে তার  ইবাদত করা লাগবে না।তাহলে এটাও ঈমান  ভঙ্গের কারণ হতে পারে।

8.যদি কেউ যাদুকে হালাল মনে করে জাদুতে লিপ্ত হয়।যাদু বলতে কালো জাদু যেটাকে বলা হয়  কুফরি কালামের মাধ্যমে  মানুষের ক্ষতি করা হয় এটা  ঈমান ভঙ্গের কারণ।

9. দ্বীনেরে ব্যাপারে একেবারে বেখেয়াল বেখবর।কিরকম  বেখেয়াল যে সে কখনোই নামাজ পড়ে না,নামে শুধু মুসলমান,আর ইসলামের কোন বিষয়ের মধ্যে নেই।এটা ঈমান ভঙ্গের কারণ। 

10.যদি কেউ শরীয়তের কোন বিষয়ে কে নিয়ে ঠাট্টা করে তামাশা করে,অনেকে আছে যে দুষ্টামি করে ব্যঙ্গ করে তাহলে সেটাই মানব ভঙ্গের কারণ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow